SCMS SCMS

স্কুল পরিচিতি

নীলফামারী সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়টি নীলফামারী শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত। নীলফামারীর প্রধান শহর থেকে জলঢাকা অভিমূখী রাস্তায় বিদ্যালয়টির প্রধান ফটক অবস্থিত। বিদ্যালয়টির বিপরীত পার্শ্বে নীলফামারী পি.টি.আই অবস্থিত। বিদ্যালয়টির সিমানার মধ্যেই নীলফামারী জেলা শিক্ষা অফিস, জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অফিস, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এবং পৌরসভার পানির ট্যাংক অবস্থিত। বিদ্যালয়ের পশ্চিম পার্শ্বে পৌরভবন এবং দক্ষিণ পার্শ্বে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের বাসভবন অবস্থিত। পৌরসভার মাঠ সংলগ্ন বিদ্যালয়টির প্রধান খেলার বিশাল মাঠ অবস্থিত। তাছাড়া বিদ্যালয়ের সীমানার ভিতরে আরও একটি খেলার মাঠ অবস্থিত।
বিদ্যালয়টির মোট আয়তন ১৩.২৩ একর। একটি পুরাতন লাল ভবন, দুটি নতুন একাডেমিক ভবন, একটি বিজ্ঞান ভবন, প্রধান শিক্ষকের বাসভবন, একটি মসজিদ, একটি তিনতলা বিশিষ্ট ছাত্রাবাস, প্রতিবন্ধী ছাত্রাবাস, একটি ছোট গার্ডশেড এবং গার্ডের দুইরুম বিশিষ্ট বাসভবন নিয়ে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো অবস্থিত। বিদ্যালয়টির মূল ভবন থেকে আধা কিলোমিটার দূরে শাহীপাড়ায় একটি ডরমেটরি অবস্থিত। বিদ্যালয়ের একটি একাডেমিক ভবনের বড় কক্ষে বিদ্যালয়ের নিজস্ব লাইব্রেরী ও তার পার্শ্বের কক্ষে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত অত্যাধুনিক কম্পিউটার ল্যাব অবস্থিত। তাছাড়া বিদ্যালয়ের নিজস্ব কম্পিউটার ল্যাব, পদার্থ, রাসায়ন, জীববিজ্ঞান ল্যাবরেটরি রয়েছে।

খেলাধুলা, শিক্ষা সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন সামাজিক কার্যাবলীতে অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্রদের অংশগ্রহণ ও সাফল্য অনস্বীকার্য। তাছাড়া কো-কারিকুলার কার্যাবলীতে বিদ্যালয়ের ব্যাপক সুনাম রয়েছে।
বিদ্যালয়ে প্রতিবছর বার্ষিক ক্রীড়া, বিজ্ঞান মেলা, শিক্ষা সফর, মিলাদ ও স্বরসতী পূজাসহ যাবতীয় ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি ও নববর্ষের অনুষ্ঠান জাকজমকের সাথে পালন করা হয়। সেগুলোতে জেলার বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ ও জেলা প্রশাসক মহোদয় অংশগ্রহণ করেন। তাছাড়া সরকারী সকল কর্মসূচীতে এই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে থাকে।

বিদ্যালয়ের একটি দরিদ্র তহবিল রয়েছে, সেখান থেকে গরিব ও মেধাবী ছাত্রদের বৃত্তি প্রদান করা হয় এবং বিনাবেতনে অর্ধবেতনে পড়ার সুযোগ রয়েছে। প্রতিবছর এস.এস.সি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণের জন্য দরিদ্র তহবিল হতে সাহায্য প্রদান করা হয়ে থাকে।

বিদ্যালয়টির একাডেমিক কার্যাবলী উন্নয়নের জন্য নিয়মিত ধারাবাহিক মূল্যায়ন (সি.এ) গ্রহণ, নম্বরপত্র প্রদান, অভিভাবক সমাবেশের আয়োজন করা হয়। যাতে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম মূল্যায়ন করা হয়।

বিদ্যালয়টিতে দুটি শিফট চালু রয়েছে। প্রভাতি শিফট সকাল ৭.০০ টায় শুরু হয়ে ১১.৪৫ পর্যন্ত চলে। প্রভাতি শাখা ও দিবা শাখার একাডেমির কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দুজন সহকারী প্রধান শিক্ষক নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

বিদ্যালয়টিতে নিয়মিত এসেম্বলী অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে শিক্ষক ও ছাত্র উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক।

বাংলার উত্তর জনপদের একটি নাম নীলফামারী। বীর সংগ্রামী নুরলদীনের কৃষক বিদ্রোহ ও ফকির বিদ্রোহ খ্যাত জনপদ নীলফামারী। শুধু বিদ্রোহ আর সংগ্রামই নয় তিস্তা, চাড়াল কাটা, বুড়িখোড়া, বামনডাঙ্গা, যমুনেস্বীর পলি বিধৌত উর্বর এর মাটি। কালের স্রোতে হারিয়ে গেছে অনেক কিছুই আবার কিছু কিছু জিনিস পূর্বের তুলনায় খ্যাতি ছড়িয়ে চলেছে। তেমনি একটি নাম নীলফামারী সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতি বছর বহু মেধাবী ছাত্র এ প্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়ে ডেশে বিদেশে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে চলেছে এগিয়ে নিয়ে চলেছে নিলফামারীকে তথা গোটা দেশকে।

বিদ্যালয়ের ছাত্রদের জন্য নির্ধারিত পোশাক রয়েছে। নেভি কালার সোলডারসহ সাদা শার্ট ও নেভি কালারের ফুলপ্যান্ট। সাদা কেটস ও স্কুল মনোগ্রাম সংযুক্ত টাই বাধ্যতামূলক।
বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক পাঠদান করায় ও প্রধান শিক্ষকের নিয়মিত পর্যবেক্ষণের কারণে শিক্ষার মান দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।